প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রাবনী বণিক
বহুদিন ধরেই ফুসফুসের অ্যাডেনোকার্সিনোমা অর্থাৎ ফুসফুস ক্যানসার এবং মেটাস্টেসিসে ভুগছিলেন অভিনেত্রী
বছর শেষে দুঃখের পাহাড় ভেঙে পড়লো টেলিপাড়ায়। মারণরোগের কাছে হার মানলেন অভিনেত্রী শ্রাবনী বণিক। বহুদিন ধরেই ফুসফুসের অ্যাডেনোকার্সিনোমা অর্থাৎ ফুসফুস ক্যানসার এবং মেটাস্টেসিসে ভুগছিলেন অভিনেত্রী। কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। ভর্তিও ছিলেন হাসপাতালে। কিন্তু সোমবার সকাল ন’টায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শ্রাবণী।
ক্যানসারের চিকিৎসা ব্যায়বহুল। তাই মায়ের চিকিৎসার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলেন শ্রাবণীর ছেলে অচ্যুত আদর্শ। দীর্ঘ পোস্টে অভিনেত্রীপুত্র লিখছিলেন, “মাকে বাঁচানোর জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। আমার মা ফুসফুস ক্যান্সার এবং মেটাস্টেসিসে ভুগছেন। আমরা সকলেই প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু সমস্ত চিকিৎসা নিয়ে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। যেহেতু এই বিশাল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা সময় সাপেক্ষে ব্যাপার তাই আপনাদের সকলের কাছে সাহায্যের অনুরোধ চাইছি। আপনারা প্রত্যেকে যদি অল্প সাহায্য করেও এগিয়ে আসেন সেটাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের সাহায্য এবং শুভেচ্ছা জন্য আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।” পোস্টের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও কিউআর কোডও সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছিলেন অচ্যুত। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না। বছর শেষ হওয়ার আগেই চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন অভিনেত্রী।
শ্রাবণীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে পরিচালক বাবু বণিকের শোকবার্তা, “কিছু পরিচয় কাজের সূত্রে হয় কিন্তু সেই পরিচয় যখন কোনও চাওয়া-পাওয়া, বা কোনও শর্ত বা কোনও স্বার্থ, সবকিছু ছাড়িয়ে একটা অন্য মাত্রা নেয়। দুটো পরিবারকে অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে ফেলে, সেটাকেই বোধহয় প্রকৃত বন্ধুত্ব বলে। আজ শ্রাবণীকে হারিয়ে আমি, আমার পরিবার, আমরা সবাই বাকরুদ্ধ। চিরকাল কেউ থাকে না। কিন্তু শ্রাবণী যে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে বিশ্বাস করতে পারছি না। শুনেছি , আত্মার কোনও মৃত্যু নেই। তাই ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।” শোকপ্রকাশ করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনেতা লেখেন, ‘চলে যাওয়ার জন্য ব্যাগ গোছাতে বসেছ, জানতে পেরেছিলাম ক’দিন আগে। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে ভাবিনি। অন্য কার কী মত জানি না, তবে আমার দেখা এই সময়কার অন্যতম সেরা অভিনেত্রী ছিলে তুমি। ভালো থেকো শ্রাবণী।’
শোকপ্রকাশ করেছেন তাঁর রাঙা বউ সিরিয়ালের সহ-অভিনেত্রী শ্রুতি দাস। পরিচালক স্বর্ণেন্দু সামাদ্দার। অভিনেত্রী তনুকা চট্টোপাধ্য়ায় লেখেন, ‘তোমার বাড়ি গিয়ে আড্ডা মারাটা আর হল না শ্রাবণী। তারাদের দেশে ভালো থেকো ভাই’। এছাড়াও শ্রাবণীর মৃত্যুর খবর পেয়ে টলিপাড়ার আরও অনেকেই ইতিমধ্যে শোক প্রকাশ করেছেন।
প্রসঙ্গত, ‘লালকুঠি’, ‘রাঙা বউ’, ‘গোধূলী আলাপ’, ‘সোহাগ চাঁদ’-এর মতো অজস্র ধারাবাহিকে শ্রাবণীর অভিনয় সকলের নজর কেড়েছিল। এ ছাড়াও তরুণ মজুমদারের পরিচালনায় ‘আলো’, ‘চাঁদের বাড়ি’-র মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। বরাবর বামপন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন শ্রাবণী। জানা গিয়েছে, এদিন নিমতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য হবে।