জয়া হাসান

মায়ের বিয়ের শাড়িতে রাজরানী রূপে সেজে উঠেছেন জয়া। অতীতের স্মৃতিচারণে আবেগে ভাসলেন তিঁনি

অভিনেত্রী মায়ের বিয়ের শাড়ি পরে রাজকীয় বেশে ধরা দিলেন ক্যামেরায়

মায়ের শাড়ি  প্রতিটা মেয়ের কাছেই আবেগের, আর তা যদি হয় মায়ের বিয়ের শাড়ি তাহলে তো সেটা আরো বেশি স্পেশাল। সম্প্রতি জয়া আহসানকে দেখা গেলো মায়ের  শাড়িতে অনবদ্য লুকে। তা নিয়ে আবেগেও ভাসলেন এপারবাংলা-অপারবাংলার জনপ্রিয় নায়িকা। জন্মসূত্রে তিঁনি বাংলাদেশী, সেখান থেকেই অভিনয়ের যাত্রাপথ শুরু তাঁর ।  বর্তমানে তিঁনি দু-দেশেই  চুটিয়ে কাজ করেছেন।   তবে বছরের বেশিরভাগ সময়ই কলকাতাতেই থাকেন অভিনেত্রী। অভিনেত্রী নিজের সমাজমাধ্যমে হারহামেশাই নিজের ছোটোখাটো নানা মুহূর্ত এবং পরিবারের সাথে নিজের ছবি পোস্ট করতে ভালোবাসেন। তা দেখেই বোঝা যায় তিঁনি পরিবারের সাথে কতটা মিশে থাকেন।  পরিবার তার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই মায়ের বিয়ের শাড়ী নিয়ে তিঁনি যে  আবেগপ্রবণ হবেন  তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

আরও পড়ুন:

৪৫  বছর আগের শাড়িতে অনন্য জয়া। 

 

বুধবার অভিনেত্রী মায়ের বিয়ের শাড়ি পরে রাজকীয় বেশে ধরা দিলেন ক্যামেরায়। সেই ছবিই সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছিলেন  তিঁনি।  ছবিতে নীল ও লাল রঙের  শাড়িতে সাবেকি সাজে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। গলায় ভারী হাঁসুলী,ঝোলা হার, কানের,হাতে চুরি, শাঁখাপলা, আংটি, ছোট্ট টিপ। একেবারে বধূ সাঁজে সেজেছেন জয়া।  ছবিগুলি শেয়ার করে অভিনেত্রী লেখেন। ‘যে দুটি শাড়ী দেখা যাচ্ছে সেগুলির বয়স ৪৫ বছর। আসলে এগুলি আমার  মায়ের বিয়ের শাড়ি।  একটা বিয়ের আর একটা বৌভাত এর। বাবা কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন কলকাতা থেকেই। সোনার সুতোয় কাজ করা এক চিরন্তন রূপকথা। এখনো ঠিক যেন নতুন নতুন বিবাহের গন্ধে ভরপুর। এই দুটো শাড়ি নিয়ে সেই কিশোরী বেলা থেকে আমরা দুই বোন কি কাড়াকাড়ি টাই না করেছি!বিবাদ হোক বা খুনসুটি সে যাই বলি না কেন, সেটা হতো ক কোনটা নেবে তা নিয়েই। আমি বলতাম নীলটা আমার বোনের পছন্দ ছিল লাল টুকটুকে টা!

কখনো যে কিশোরীর খেয়ালে পছন্দ যে ওলোট-পালট হতো না তা নয়।’ 
অভিনেত্রী আরও লেখেন, ‘পরে বুঝেছি দুটো শাড়ি-ই আমাদের কাছে অমূল্য সম্পদের মতো, আর তাতেই এতো টান। মৌসুমী ভৌমিকের গানের সেই যে মরমী লাইনটা, “কিছু ফেলতে পারি না” আমার হয়েছে সেই অবস্থা। সব কিছুর উপরেই স্নেহ, অদ্ভুত মায়া। আমার মায়ের যত পুরাতন  শাড়ি, বিয়ের শাড়ি, আমার জন্মের আগে মায়ের  সাধ  ভক্ষণের শাড়ি সব রয়ে গেছে আমার কাছে। আলমারির যত্নে, ন্যাপথলিনের রূপকথায় আত্মকথার ইতিহাস। আর আমার মাতৃতান্ত্রিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন মাত্র।’ অভিনেত্রীর এই সাজে মুগ্ধ নেটমহল। ভক্তরা ভুরি ভুরি প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন কমেন্ট বাক্স। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *