‘স্বার্থপর’
বর্তমানে শহরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কোয়েল মল্লিক অভিনীত ‘স্বার্থপর’ সিনেমাটি
বর্তমানে শহরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কোয়েল মল্লিক অভিনীত ‘স্বার্থপর’ সিনেমাটি। শহরজুড়ে এই সিনেমার পোস্টার। পরিচালক অন্নপূর্ণা বসু যেন প্রতিটা ঘরের ছবি তুলে ধরেছেন গল্পের মাধ্যমে। প্রতিটা বাড়ির মেয়েদেরকেই কখনো না কখনো বিয়ে করতে হয়। বিয়ের পরে সেই মেয়েটি যেই বাড়িতে বড়ো হয়েছে নিজের বাড়ি বলে জানতো, সেই বাড়িটাকেই বলা হয় তার নিজের বাড়ি নয়। শশুর বাড়ি তার নিজের। তবে শাশুর বাড়িতেও গিয়ে শুনতে হয় সেটাও তার নিজের বাড়ি নয়। তারপর থেকেই বাপেরবাড়ি আর শশুরবাড়ি মাঝে মেয়েদের জীবন বারংবার দাঁড়িয়েছে প্রশ্নের মুখে। মেয়েদের নিজের বাবার বাড়ির সম্পত্তির ভাগ চাইতেও বারংবার ভাবতে হয়। শুনতে হয় নানা গঞ্জনা। আবার ভাই-বোনের মধ্যে নিখাঁদ ভালোবাসা থাকলেও, সম্পত্তির জন্য সম্পর্কটা যে কখন কাঠগড়ায় পৌঁছায় তা বোঝা দায়। সেই সমস্ত গল্প নিয়েই তৈরী হয়েছে পরিচালক অন্নপূর্ণা বসুর ‘স্বার্থপর’ সিনেমাটি। কৌশিক গাঙ্গুলি ও কোয়েল মল্লিক অভিনীত এই ছবিতে ফুটে উঠেছে ভাই বোনের নিপাট ভালোবাসা।
ভাইফোঁটা উপলক্ষে বাংলার প্রতিটা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এই সিনেমা। যা দেখে ইতিমধ্যেই প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন সিনেমাপ্রেমীরা। এবার এই ছবির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন জনপ্রিয় পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।
আধুনিক সমাজে দাঁড়িয়েও মেয়েদের অধিকার সম্পর্কে মানুষের মানষিকতা যে এক বিন্দু বদলায় নি তাঁর প্রতিফলন এই সিনেমা। যা দেখে আবেগপ্রবন হয়ে চোঁখ ভিজেছে বহু মানুষের। পরিচালক রাজ চক্রবর্তী তাদের মধ্যে একজন। এই সিনেমা দেখে তিঁনি যে কতটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন তা তিঁনি অকপটেই ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেন । এমনকি প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরনোর পরও সিনেমার রেশ কাটাতে পারেননি রাজ চক্রবর্তী। তাই সিনেমার প্রশংসায় রাজ লিখলেন, ”স্বার্থপর’ দেখে বেরোলাম। চোখ ভিজে আছে এখনও। খুব সুন্দরভাবে তৈরি একটা ছবি এবং উপযুক্ত চিত্রনাট্যের মাধ্যমে ভীষণ সমসাময়িক একটি গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অসাধারণ ডিরেকশন, ক্যামেরা, এডিট।
যার কথা সব থেকে বেশি বলব, কোয়েল মল্লিক। প্রত্যেকটা ফ্রেমে নিজের বিশ্বাসযোগ্য অভিনয় দিয়ে চরিত্রটির মধ্যে প্রাণ ঢেলে দিয়েছে। সঙ্গে অবশ্যই কৌশিক সেনের অনবদ্য সঙ্গত এবং এই দুই চরিত্রের টানাপোড়েন এই ছবির প্রাণবিন্দু হয়েছে। সঙ্গে রঞ্জিত মল্লিক এবং অনির্বাণ চক্রবর্তীর উজ্জ্বল উপস্থিতি এই ছবিকে আলোকিত করেছে। গানগুলি অসাধারণ।’ শেষপাতে রাজের সংযোজন, ‘দয়া করে সকলে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখে আসুন।’ রাজের এমন প্রতিক্রিয়াই প্রমান করে এই ছবিটা তাঁর মনে কতটা দাগ কেটে গেছে। ক্যামেরার সামনে রাজ এও বলেন ‘এইসময় এরকম একটা গল্প বানানোর দরকার ছিল।’