লন্ডনে শ্রীনন্দা

বিচ্ছেদের পর, মন ভালো করতে লন্ডনে শ্রীনন্দা। জীবনের নতুন অধ্যায়ের শুরুতেই কী বার্তা দিলেন তনুশ্রী কন্যা ?

দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী শ্রীনন্দা শঙ্কর

Image

বছর শেষে  টেলিপাড়ায় ফের সম্পর্কের  ভাঙন। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী শ্রীনন্দা শঙ্কর। রবিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে একথা ঘোষণা করেছেন তিনি। অনুরাগীদের কাছে শ্রীনন্দার অনুরোধ, এমন সময় তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসরকে নিভৃত রাখা হোক। এও স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিচ্ছেদ নিয়ে কাটাছেঁড়া হতেই পারে, কিন্তু বিন্দুমাত্র প্রতিক্রিয়া দেবেন না তিনি বা তাঁর সদ্য প্রাক্তন স্বামী জেভ অথবা সেলিব্রিটি মা তনুশ্রী শঙ্কর। কিন্তু কেন ১৬ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানলেন, সে কথা স্পষ্ট করে না জানালেও শ্রীনন্দার পোস্টে চাপা পরে থাকেনি ঘর ভাঙার বেদনা। লিখেছেন, অনলাইনে জনপ্রিয় ভিডিওগুলোই দাম্পত্যসুখ বা দাম্পত্যের রসায়নের সবটা ধরা পড়ে না।


এইমুহূর্তে ইংল্যান্ডে রয়েছেন শ্রীনন্দা। রয়েছেন সম্পূর্ণ বাঙালি পরিবেশে। সেই বাড়ি থেকেই ‘মন কি বাত’ নামের ফের একটি ছোট্ট ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করলেন তিনি। ছোট্ট হলেও তা যথেষ্ট অর্থবহ। বিয়ে, বিচ্ছেদ ও বিচ্ছেদ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিতে দেখা গেল তাঁকে। পাশাপাশি অল্প কথায় জানিয়েছেন তাঁর আগত জন্মদিন পালন ও লন্ডন-সফরের পরিকল্পনা। ঘরের মধ্যে থেকে করা ওই ভিডিওতে শ্রীনন্দাকে বলতে শোনা গেল, “ইংল্যান্ডে খুব সুন্দর সময় কাটাচ্ছি। বেশ শান্তিতেই। যদিও এখানে এসে এখনও একটা গোটা দিন কাটেনি, তবুও। আজ, একটু ঘুরতে বেরোবো

এই আশেপাশেই, সুস্বাদু কিছু খাবার চাখার ইচ্ছেও আছে। খাওয়াটাওয়া হয়ে গেলে সেসব অবশ্যই আপনাদের জানাবো। আচ্ছা, একটা কথা আমি কিন্তু বাঙালি বাড়িতে আছি, তাই আমার চারপাশ থেকে বাচ্চাদের হল্লা আসছে। যদিও এই পরিবেশটা কিন্তু আমার ফাটাফাটি লাগছে। 
 আচ্ছা, আর একটা কথা। অনেকেই আমাকে বেশ কিছুদিন ধরে জিজ্ঞেস করছেন যে কেন আমি আর রূপটান, রূপসজ্জার কোনও ভিডিও আপলোড করছি না? সত্যি কথাটাই বলি জবাবে। আসলে, যখন আপনি খুব কান্নাকাটি করেন, তখন আপনার চোখ ফুলে যায়। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। আর তাই মেক আপের ভিডিও করতে পারিনি, আমাকে কিছুদিন সময় দিন। কথা দিচ্ছি, এমন দারুণ মেক-আপের ভিডিও আপলোড করব যে দেখে চমকে যাবেন।  আর সবসময় তো মুখেচোখে রূপটান দিতে ইচ্ছেও করে না। আরে, দিনের শেষে আমরা তো নারী। আমাদেরও তো নানারকম মুড হয়। তা নিয়ে আমার অবশ্য কোনও সমস্যা নেই। আপনিও এই ব্যাপারটিকে সমস্যা মনে করবেন না। নারী হিসেবে গর্বিত বোধ করুন। বেশ হয়েছে, যদি আমরা খামখেয়ালি, তো খামখেয়ালি!” তাই নিজেদের নানা মুড, দুর্বলতা কিংবা খামখেয়ালিকে দোষ না দিয়ে, গর্বের সঙ্গে এগিয়ে চলার আহ্বান রাখলেন তিনি। আরও বললেন, “আমি জমিয়ে খাওয়াদাওয়া করব এখানে।

আরও পড়ুন:

তাতে যদি আমার ওজন বেশ কয়েক কিলো বেড়ে যায়, তো যাবে। সবকিছুর ভিডিও শেয়ার করব। ও হ্যাঁ, আসন্ন বড়দিনে আমারও জন্মদিন। সেই দিনটি লন্ডনে কাটাবো, নিজের জন্মদিনটা ওখানেই জমিয়ে উদযাপন করব। ৪৫-এ পড়ব। এই যে বয়স ৪৫ হচ্ছে এই ব্যাপারটা নিয়ে অল্প দুঃখও লাগছে আবার বেশ আনন্দও কিন্তু হচ্ছে। এই ফাঁকে আরও একটা কথা বলে ফেলি। যদি আপনি মনে করেন, আপাতদৃষ্টিতে কোনও সাহসী পদক্ষেপ, কোনও দুঃসাহসী কাজ করলে আপনার জীবনটা আরও একটু সুন্দর হয়ে উঠবে, তাহলে চটপট সেটাই করে ফেলুন। জাস্ট করে ফেলুন। ” 
তবে তাঁর বার্তার সবচেয়ে শক্তিশালী অংশটি-স্বনির্ভরতার কথা। শ্রীনন্দার স্পষ্ট বক্তব্য, “অতি অবশ্যই উপার্জন করুন। আজ টাকা উপার্জন করতে পারছি বলেই নিজের এই কঠিন পরিস্থিতি, সময় কাটিয়ে উঠতে আমি কিন্তু লন্ডনে চলে আসতে পেরেছি! আমার তো মনে হয়, বাড়িতে বসে দুঃখ করার থেকে লন্ডনে এসে নিজের এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার যে চেষ্টাটা, সেটা আমার কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য।” 


প্রসঙ্গত, উদয় শঙ্কর, মমতা শঙ্করদের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে নৃত্য জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন শ্রীনন্দা শঙ্কর। সেইসঙ্গে তিনি মডেলিং এবং অভিনয় জগতেও নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন। ২০০৯ সালে মহারাষ্ট্রের পার্সি ব্যবসায়ী জেভ সাতারাওয়ালের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শ্রীনন্দা। কলকাতায় ভারতীয় ও পার্সি – দুই মতেই বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। তাঁরা

পাকাপাকিভাবে মুম্বইয়ে থাকেন। এক কন্যাও রয়েছে শ্রীনন্দা-জেভের। দিন কয়েক আগে পর্যন্তও সুখী দাম্পত্যের ছবি উঠে এসেছিল শ্রীনন্দার সোশাল মিডিয়ায়। একবিন্দু বোঝা যায়নি যে উভয়ের সম্পর্কে ভাঙাগড়া চলছে। বিবাহবিচ্ছেদের খবর ঘোষণা করার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন শ্রীনন্দা শঙ্কর। কেউ তাঁকে এই কঠিন সময় সমর্থন করেছেন, শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, কেউ আবার বিদ্রুপ করেছেন তাঁর পিসি মমতা শঙ্করের প্রসঙ্গ টেনে এনে। লন্ডনে বন্ধুর বাড়ি থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে এদিন শ্রীনন্দা বলেন, “আমার বিবাহবিচ্ছেদের খবর পেয়ে ভালবাসা এবং সিম্প্যাথি দেখানোর জন্য ধন্যবাদ। তবে এটা জানিয়ে দিই, এটা অনেকদিন আগেই হয়েছে, সেদিন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছি। সেটার মানে এটা নয় যে আমি কষ্টে আছি। আমি ভাল আছি, খুশিতে আছি। কারণ একটা সময় আপনাকে বেছে নিতে হয় যে আপনাকে কী ভাল রাখে আর কী নয়। বিশেষ করে মহিলারা অনেক সময় এই ভাল থাকাটা বেছে নিতে পারে না, ভয় পায়। কিন্তু যদি মনে করো, কিছু তোমায় ভাল রাখবে, সেটাকে বেছে নাও। কিন্তু প্রতিটি গল্পেরই দুটো দিক থাকে। আমি তাই পিছু ফিরে দেখতে চাই না।” 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *