সাগ্নিক চ্যাটার্জী
ভিলেনের পার্শ্ব চরিত্র থেকে যাত্রা শুরু করে হয়ে ওঠেন বাংলার পরিচিত ভিলেন
সাগ্নিক চ্যাটার্জী টলিউড ইন্ডাস্ট্রির খুব পরিচিত মুখ। যেকোনো চরিত্রেই নিজেকে ফুটিয়ে তোলায় তার জুড়ি মেলা ভার। অভিনয়ের অনুপ্রেরণা ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। তার কথায়, ‘ মিঠুনদার ছবি দেখে ছোট থেকেই অভিনয়ের কিরা ঢুকে গেছিলো ভিতরে। এসেছিলেন হিরো হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। তবে আস্তে আস্তে হয়ে উঠেছিলেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয়ও ভিলেন। অভিনয়ের যাত্রা পথ ছিলোনা খুব একটা ফুলে বিছানো। বাবার ব্যবসা ছেড়ে অভিনয়ে পা রাখেন তিঁনি। একটা সময় কাজ পাওয়ার জন্য তাঁকে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকতে হতো ষ্টুডিও পাড়ায়, কিন্তু সেসময় শারীরিক গঠন, গায়ের রং পোশাক-আশাকের জন্য প্রত্যাখ্যান পেয়েছিলেন তিঁনি। তাঁর মতে, তখনকার দিনে স্কিনফিট জামা, কানে দুল সেসব হিরোদের সংজ্ঞা ছিল না। হিরো হতে হবে ফর্সা, শারীরিক গঠন ভালো। সেসময় হিরো হওয়ার স্বপ্ন তিঁনি ভুলে যান। তবে অভিনয়ের কিরা কিন্তু তার মধ্যে থেকে বের হয়নি। এরপর ভিলেনের পার্শ্ব চরিত্র থেকে যাত্রা শুরু করে হয়ে ওঠেন বাংলার পরিচিত ভিলেন। শুধু ভিলেন নয়, যেকোনো চরিত্রই অসাধারণ দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তোলেন তিঁনি। বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে প্রেক্ষাপট বদলেছে সাগ্নিক মনে করেন, শুধু অভিনয় জানলে হবে না, দেখতে হবে আপনার বয়স কত, শরীর কেমন, কতদিন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আজকাল তো কাজের জন্যও নথিপত্র দিতে হয়— প্যান কার্ড, আধার, যেখানে স্পষ্ট লেখা থাকে বয়স। ফলে শরীরচর্চাও এখন দায় হয়ে পড়েছে। অভিনেতা আরও বলেন, “”আমার সমসাময়িক কেউ শরীরের যত্ন না নিলে, তাঁরা বাবা-দাদুর চরিত্র করছেন ঠিক আছে, তাহলে আমি যত্ন নিলে কেন অন্য কিছু করতে পারব না?”
নিজের বাবার খোঁজ জানতে, মোনালিসার সাথে বিহানের বিয়ে ভেঙে, বিহানের বাড়িতে ও ঋতুজার মনে নিজের জায়গা তৈরী করা । এরপরেই কম্পাস জানতে পারে নিজের বাবার হারিয়ে যাওয়ার সাথে অখিলেশ চৌধুরীর যোগসূত্র।
সব মিলিয়ে কম্পাসের টান টান পর্বে মশগুল সিরিয়েল প্রেমীরা। সিরিয়েল এর পর্দার কম্পাসকে তো চিনি আমরা। কিন্তু বাস্তব জীবনে অভিনেত্রী পর্ণা চক্রবর্তীকে কী চেনেন?
না?” এই প্রশ্নগুলো সাগ্নিক তুলছেন এমন এক ইন্ডাস্ট্রির দিকে, যেটা বহুকাল ধরেই মুখে বলে ‘অভিনয়ই আসল’, কিন্তু বাস্তবে সেটা প্রায়শই হয় না।কে কেমন দেখতে, কে কত ফিট, কে কতটা “বাজারে চাহিদা আছে। এসব দেখেই বিচার করা হয়। সাগ্নিক কিন্তু বড়ো পর্দা থেকে ছোট পর্দা সব জায়গাতেই যে চরিত্রেই অভিনয় করুক না কেন সেই চরিত্রের সাথে মিশে যাওয়ার সহজাত ক্ষমতা তাঁর মধ্যে আছে।
পর্দায় ভিলেন এর ভূমিকায় অভিনয় করলেও, বাস্তবের সাগ্নিক যে পুরোটাই বিপরীত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাগ্নিকের পশু-পাখি, গাছপালার প্রতি আছে অবাধ ভালোবাসা। কোথাও কোনো গাছ কাটা হলে মন খারাপ হয় তাঁর। গাছ কাটতে দেখলে,জোরে সাউন্ড বাজালে প্রতিবাদ করেন তিঁনি। কিন্তু বারংবারই তাকে পরতে হয় কটাক্ষের মুখে। তিনি সমাজ নিয়েও যথেষ্ট সচেতন। জল অপচয়, প্লাষ্টিক দূষণ নিয়েও সোচ্চার হয়েছেন তিঁনি। নাচ করতে ভালোবাসেন অভিনেতা। এছাড়াও তাকে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশ একটিভ দেখা যায়। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি স্ত্রীর সঙ্গে হাসির ভিডিও দি তাতে যদি কেউ হাসে এটাই আমার ভালো লাগে। আমি জিম এর ভিডিও দিতেও ভালোবাসি। কিন্তু এসবের মধ্যে কত ফলোয়ার বাড়ছে এই নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই।
কম্পাস ধারাবাহিকে তাঁর অসাধারণ অভিনয় মন কেড়েছে দর্শকদের। ছকে বাঁধা সুন্দরী নায়িকা তিঁনি নন। ছোট-ছোট ববকাট চুল, চোখে চশমা, গায়ে সোয়েটার, গলায় মাফলার এই লুকেই দর্শক মহলে নিজের
জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেত্রী পর্ণা চক্রবর্তী। কিছুদিন আগেই স্টার জলসার পর্দায় শুরু হয়েছে কম্পাস । ধারাবাহিকের শুরু থেকেই দাদুর শর্তে মোনালিসা ম্যাডাম এর জন্য পড়াশুনা থেকে শুরু করে, বিহানের সাথে ঘটনাচক্রে বিয়ে।
নিজের বাবার খোঁজ জানতে, মোনালিসার সাথে বিহানের বিয়ে ভেঙে, বিহানের বাড়িতে ও ঋতুজার মনে নিজের জায়গা তৈরী করা । এরপরেই কম্পাস জানতে পারে নিজের বাবার হারিয়ে যাওয়ার সাথে অখিলেশ চৌধুরীর যোগসূত্র।
সব মিলিয়ে কম্পাসের টান টান পর্বে মশগুল সিরিয়েল প্রেমীরা। সিরিয়েল এর পর্দার কম্পাসকে তো চিনি আমরা। কিন্তু বাস্তব জীবনে অভিনেত্রী পর্ণা চক্রবর্তীকে কী চেনেন?
বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কের জেরে ২০০৪ সালে বিচ্ছেদ হয় সাগ্নিকের। যদিও প্রথমে সন্তানদের কথা ভাবে সম্পর্কটা চালিয়ে যাওয়ার কথা ভেবে ছিলেন তিনি, কিন্তু পরে তা আর সম্ভব হয়নি। বিচ্ছেদের পর দুই সন্তানকে প্রথম স্ত্রীর দায়িত্বে না দিয়ে নিজেই মানুষ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। স্ত্রী চ্যালেঞ্জ করেছিলেন তিনি পারবেননা ছেলেমেয়ে মানুষ করতে। এক মেয়ে ও স্পেশাল চাইল্ড ছেলের দায়িত্ব খুব দক্ষতার সাথে পালন করেন তিঁনি । অবশেষে ২০১৮ সালে মেয়ে জার্মানিতে পিএইচডি’র সুযোগ পেলে মেয়ে নিজেই তার মাকে বাবার হয়ে জবাবটা দিয়েছিল বলে জানান অভিনেতা। সাগ্নিক বলেন, ২০১৬ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিঁনি। দ্বিতীয় স্ত্রী শম্পা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ডিভোর্সি এক মেয়ের মা। অভিনেতা আরও বলেন, তার ভাগ্নেকেও ছোটবেলা থেকে তিনিই মানুষ করেছেন। এখন মা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তার ভরা সংসার।