স্মৃতি মন্ধানা ও পলাশ মুচ্ছল
স্মৃতির বাবাই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন
বিশ্বজয়ী কন্যার বিবাহ বিভ্রাট। একেরপর এক ঘটে চলেছে অঘটন। বাবার পরে হাসপাতালে স্মৃতির হবু স্বামী সুরকার পলাশও। মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলীতে বসেছে স্মৃতি মন্ধানা ও পলাশ মুচ্ছলের বিয়ের আসর। খুব ঘনিষ্ঠ পরিজনদের মধ্যে বিয়ে করছেন তাঁরা। রবিবার বিকেলেই চার হাত এক হওয়ার কথা। এর মাঝেই বিয়ের আসরে হঠাৎ হাজির একটি অ্যাম্বুল্যান্স।
প্রথমে শোনা যায়, উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে একজন হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি নাকি হৃদ্রোগে আক্রান্ত। তাই অ্যাম্বুল্যান্স আনা হয়। কিছু ক্ষণের মধ্যেই জানা যায়, স্মৃতির বাবাই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে সাঙ্গলির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বাবাকে ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি স্মৃতি। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যায় বিয়ে। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। এই মুহূর্তে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। তাঁদের পারিবারিক চিকিৎসক ডা. নমন শাহ জানিয়েছেন, মেডিক্যাল টিমের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি হলে হয়তো সোমবারই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে তাঁকে।
এদিন স্মৃতি মন্ধানার আপ্তসহায়ক তুহিন মিশ্র জানিয়েছিলেন, “মন্ধানা খুব দৃঢ় ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ও বিয়ে করতে চায় না। তাই এই অবস্থায় বিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ও।”
এ বার খবর, শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে পলাশকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। সূত্রের খবর, ভাইরাল সংক্রমণ ও অম্বলের সমস্যা বাড়তে থাকায় পলাশকে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। যদিও বিশেষ চিন্তার কোনও কারণ নেই বলেই খবর। ইতিমধ্যেই চিকিৎসায় সাড়া দিয়েছেন তিনি এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে হোটেলের পথে রওনা দিয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে ডা. নমন শাহ বলেন, “রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ শ্রীনিবাস মন্ধানার বুকের বাঁদিকে ব্যথা হয়। একে চিকিৎসার পরিভাষায় আমরা ‘এনজাইনা’ বলি।
এমন উপসর্গ দেখে তাঁর ছেলে ফোন করে। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্স পাঠিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইসিজি এবং অন্যান্য রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, কার্ডিয়াক এনজাইমগুলি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া রক্তচাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। তা কমানোর চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করতে হতে পারে।”
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে স্মৃতি ও পলাশের পরিবার মেতে ছিল প্রাক্বিবাহ অনুষ্ঠানে। এক এক করে হয়েছিল গায়েহলুদ, মেহেন্দি ও সঙ্গীত অনুষ্ঠান। রবিবার বিকেলেই ছিল বিয়ের লগ্ন। কিন্তু একেরপর এক বিপর্যয়ে ভাটা পড়লো বিয়ের আনন্দে।