‘হোক কলরব’
২৫ শে ডিসেম্বর এই ছবির ট্রেইলার মুক্তির পর থেকেই বইছে সমালোচনার ঝড়
‘হোক কলরব’ মুক্তির আগেই শুরু তুমুল সমালোচনা। ২৫ শে ডিসেম্বর এই ছবির ট্রেইলার মুক্তির পর থেকেই বইছে সমালোচনার ঝড়। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তেজনার পারদ আরও উর্ধ্বগামী হয়েছে। পুলিশের উর্দি গায়ে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় যে সংলাপ আওড়েছেন তা নিয়েই সমালোচনার সূত্রপাত। সেখানে শাশ্বত অভিনীত চরিত্রটিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “নমস্কার, আমি ক্ষুদিরাম চাকী! না, আমি ঝুলি না, ঝোলাই!” তারপরেই বীর বঙ্গমনীষী ক্ষুদিরাম বসুকে অসম্মানের অভিযোগে নেটপাড়ার কাঠগড়ায় রাজ চক্রবর্তী। বিতর্কের পারদ উত্তরোত্তর বাড়তেই মুখ খুলেছেন রাজ।
পরিচালক রাজ চক্রবর্তী জানান, ” এই ছবির মূল চরিত্রের নাম ক্ষুদিরাম চাকি। তিনি একজন পুলিশ অফিসার। সিনেমায় কোন পরিস্থিতিতে এমন কথা বলেছেন, সেটা সিনেমা না দেখলে বোঝা যাবে না। আগে মানুষ দেখুক। জোর গলায় জানান, এর সঙ্গে শহিদ ক্ষুদিরাম বসু এবং প্রফুল্ল চাকীর কোনও সংযোগ বা সম্পর্কই নেই৷ তাঁর আশ্বাস, প্রয়োজনে তিনি আরও বিশিষ্ট মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলবেন৷ তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর দরকার হলে বিতর্কিত সংলাপ তিনি বাদ দেবেন৷”
তিনি আরও বলেন, “প্রথম দিন থেকেই আমি বুঝতে পেরেছি এটা বিজেপি আইটি সেল এমন উস্কানিমূলক কাজ করছে । ক্ষুদিরাম বসু বা প্রফুল্ল চাকীর সঙ্গে মিলিয়ে ক্ষুদিরাম চাকী নামটি মেলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে মনে হয় আমি বাংলা সংস্কৃতিকে কোথাও ছোট করছি। দয়া করে, ওদের ফাঁদে পা দেবেন না। যারা বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্কিম দা বলেন,
যারা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙেন, যারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ছোট করেন তাদের কথা আমি শুনবো না। ওদের কাজ মানুষকে বিচলিত করা। সিনেমা মুক্তি পেলে আপনারা বুঝতে পারবেন কোন অ্যাঙ্গেল থেকে এই কথাটা বলা হচ্ছে, তার আগেই ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে অন্য কিছু বোঝানোর চেষ্টা চলছে।”
আগামী ২৩ জানুয়ারি বড়পর্দায় আসতে চলেছে রাজ চক্রবর্তীর বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘হোক কলরব’। এগারো বছর আগে ঠিক যে শব্দবন্ধের জেরে উত্তাল হয়েছিল রাজ্যের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেই স্লোগানকে হাতিয়ার করেই এবার ছাত্র রাজনীতির গল্প বুনেছেন পরিচালক। আর সেই সিনেমার ঝলক দেখেই বিতর্কের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছে। কারও বক্তব্য, ‘দেশমাতৃকার জন্য হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি গলায় তুলেছিলেন ক্ষুদিরাম বোস। আর বাংলার সেই বীর সন্তানকে নিয়ে কিনা বাংলা সিনেমাতেই এহেন সংলাপ?’ কারও বা প্রশ্ন, ‘বাঙালি নিজস্ব শিকড়-সংস্কৃতি ভুলতে বসেছে?’ একাংশ আবার রাজনৈতিক মহলের ‘মৌনতা’ নিয়ে প্রশ্ন ছুড়লেন! কেউ বা
ব্যঙ্গাত্মকভাবে বিঁধে বললেন, ‘এত জাতীয়তাবাদী ডায়লগ আওড়ানো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রতিবাদ কোথায়?’ কেউ বা আবার শাশ্বতকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ‘বেঙ্গল ফাইলস’ প্রসঙ্গ তুলে খোঁচা দিলেন, ‘উনি তো আবার না জেনেই সংলাপ আওড়ান!’ বলাই বাহুল্য, পরিচালকের পাশাপাশি এহেন সংলাপ আওড়ে বিতর্কের শিরোনামে নাম লিখিয়েছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ও। এপ্রসঙ্গে তাঁর কী মতামত? প্রশ্ন যেতেই অভিনেতা জানান, “পুরো ছবি না দেখে যাঁরা মন্তব্য করেন, তাঁদের নিয়ে ভাববার সময় নেই আমার।”