বিগ বি
এই প্রজন্মের আচরণ দেখে রীতিমত স্তম্ভিত বিগ বি
যত সময় যাচ্ছে ততই যেন সামাজিক ব্যবহার ভুলতে বসেছে আজকের জেনারেশন। কিন্তু তার পুরোটা দায় শুধু বাচ্চার নাকি অভিভাবকদেরও, অনেকেই অবশ্য দোষ দিচ্ছেন অভিভাবকদের। সম্প্রতি ‘কৌন বানেগা কারোরপতি’ শো এর একটি এপিসোডে, প্রতিযোগী হিসেবে আসে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ঈশিত ভট্ট। বিগ বির সাথে তার ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণেই তীব্র কটাক্ষের মুখে পরে সে। প্রতিযোগিতার শুরুতে অমিতাভ বাচ্চান যখন খুদেকে প্রতিযোগিতার নিয়ম বোঝাতে শুরু করেন,তখন তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি সব নিয়ম জানি। আমাকে বোঝাতে হবে না।” এরপর একবার প্রশ্ন শুনেই তাকে বলে শোনা যায়, “আরে, অপশন দাও !” এখানেই তা শেষ নয়। ‘কেবিসি’ র নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিযোগী উত্তর দিলে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় উত্তরটি লক করা হবে কি না। কারণ কেউ যদি ভুল বুঝতে পেরে উত্তর বদলাতে চাই, তার একটা সুযোগ দেওয়া হয়। একইভাবে ঈশিত কেও প্ৰশ্ন করা করেন অমিতাভ। তার উত্তরে খুদে বলে একটা কেন চারটে লাগিয়ে দিন। কিন্তু লক করুন। এই অতি আত্মবিশ্বাসই কাল হলো তাঁর । রামায়ণ থেকে একটি প্রশ্ন করা হলে, ভুল উত্তর দিয়ে খালি হাতেই ফিরতে হলো তাঁকে।
এই প্রজন্মের আচরণ দেখে রীতিমত স্তম্ভিত বিগ বি। তিঁনি বলেন, ‘আমি জানি না এখনকার ছেলেমেয়েরা কিভাবে কথা বলে। আমরা তো ভাবতেই পারতাম না।’ কিন্তু তাও খুদের এহেন আচরণে মেজাজ হারাতে দেখা যায়নি অমিতাভকে। বরঞ্চ যতক্ষণ ঈশিত ছিল তাকে সাহায্য করে গেছেন তিঁনি। আর আগেও এমন কিছু ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে ‘কেবিসিতে।’ দিনকয়েক আগে ‘কেবিসি জুনিয়র’-এ দেরাদুনের বাসিন্দা আঞ্জেল নাথানিও অংশগ্রহণ করেছিল। তার কথা শুনেও একইভাবে হতবাক হয়েছিলেন বিগ বি। ভালোই খেলেছিল আঞ্জেল। কিন্তু সে এতো বেশি কথা বলেছিলো যে অমিতাভও অবাক। আঞ্জেল তার পছন্দ অপছন্দ নিয়েও গল্প করেছিল। ফাস্ট ফুড পছন্দের পাশাপাশি, মায়ের বিধিনিষেধ, সবকিছু নিয়েই বলতে শোনা যায় তাকে। অমিতাভ অবশ্য খুদের প্রশংসাই করেছিল।
তবে তার মনে তখনো প্রশ্ন জেগে ছিল। বর্তমান প্রজন্মের কথা বলার ভঙ্গি নিয়ে।
প্রতিযোগিতা চলাকালীন দর্শকাসনে খুদের এ হেনো আচরণে অস্বস্তিতে তো নাই, উল্টে উৎফুল্ল ছেলেটির মা-বাবা। এতে করে আরো সমালোচনার মুখে পড়েন তারা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন ছেলেটির পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে। প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকের ভুমিকা নিয়ে। আবার মনে করছেন, ওতো বড়ো জায়গায় গিয়ে হয়তো নার্ভস হয়ে পড়েছিল ছেলেটি। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, হয়তো ওই গোটা পর্বটাই সাজানো ছিল। দর্শকের আলোচনায় থাকার জন্য। তাই অনেকের মন্তব্য এই ঘটনা ভবিষতে খুদের মনে গভীর চাপ ফেলতে পারে।