অমিতাভ বচ্চন।

 
 
 

'এই শূন্যতা কোনওদিন ভরার নয়', বীরুর বিয়োগে নিঃসঙ্গ জয় ! ধর্মেন্দ্রর স্মৃতিতে কলম ধরলেন অমিতাভ বচ্চন। 

এ বছরেই জুটি ভেঙে চিরদিনের মতো হারিয়ে গেলেন এক ‘দোস্ত’

 
 
 
 
 
 
Amitabh image

বীরুকে নিয়ে মধ্যরাতে কলম ধরলেন বিগ বি।  ‘ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে, তোড়েঙ্গে দম মগর তেরা সাথ না ছোড়েঙ্গে…’, সোমবার দুপুরে মুম্বইয়ের ভিলে পার্লে শ্মশান যেন ‘শোলে’র সেই ‘দোস্তি’র সাক্ষী থাকল। শেষবারের মতো ‘বীরু’ ধর্মেন্দ্রকে দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন ‘জয়’ অমিতাভ বচ্চন। শ্মশান থেকে ফেরার পরও বন্ধু বিয়োগের যন্ত্রণায় ডুকরে ডুকরে উঠেছেন! ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে যেন আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লেন তিঁনি । সোমবার গভীর রাতের ব্লগ পোস্টে বীরুর সঙ্গে ‘ইয়ে দোস্তি’র স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে অমিতাভের লেখা প্রতিটা ছত্রে সেই ব্যথাই যেন বার বার ফিরে ফিরে এল।


গভীর রাতে বন্ধুর প্রয়াণে আবেগপ্রবণ বিগ বি। 


কখনও পুরস্কারমঞ্চে, কখনও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে— রমেশ সিপ্পির ‘শোলে’ ছবির দুই বন্ধু মুখোমুখি হলেই গাঢ় আলিঙ্গনে একে অপরকে বেঁধেছেন। এ বছর সেই ছবির ৫০ বছর। এ বছরেই জুটি ভেঙে চিরদিনের মতো হারিয়ে গেলেন এক ‘দোস্ত’। সোমবার রাত ২.২৫। ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে কলম ধরলেন অমিতাভ। লিখলেন, “আরেকজন বীরবিক্রম আমাদের ছেড়ে চলে গেল। এই মঞ্চ ছেড়ে চলে গেল। এক অসহ্য নীরবতা দিয়ে গেলে ধর্মজি। তুমি মহত্ত্বের প্রতীক। শুধু শারীরিক উপস্থিতি নয়, বড় মনের অধিকারী ধর্মজির সরলতা বারবার মুগ্ধ করেছে আমাদের। কালের নিয়মে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও বহু বদল এসেছে কিন্তু

 
 

আরও পড়ুন:

ধর্মেন্দ্র চিরন্তন। ওঁর নম্র ব্যক্তিত্ব, সারল্য, চার্ম কোনওদিন বদলে যেতে দেখিনি। পাঞ্জাবের ভূমিপুত্র হিসেবে যে মাটির স্বাদ নিয়ে এসেছিলেন চিরকাল সেটাই বজায় রেখেছেন। গত কয়েক দশকে সিনেইন্ডাস্ট্রি অনেক পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছে, সৌভ্রাতৃত্ববোধও বদলেছে কিন্তু ধর্মেন্দ্রর গৌরবময় ফিল্মি আখ্যানজুড়ে সেই মাটির গন্ধ রয়ে গিয়েছে। এমন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, চার্মিং ন্যাচার, বড় মন এই পেশায় খুবই বিরল। আমার চারপাশের বাতাস কেমন ভারী হয়ে আসছে! এই শূন্যতা কোনওদিন ভরাট হবে না। প্রার্থনা রইল।”


প্রসঙ্গত, চলতি বছরেই পঞ্চাশ বছর পূর্তি হবে ‘শোলের’। বীরু চরিত্রে দেখা গেছিলো ধর্মেন্দ্রকে আর জয়ের চরিত্রে ছিলেন অমিতাভ বচ্চন।  জয়-বীরুর জুটি বন্ধুত্বের অন্যতম নজির গড়েছিল।  সময় গড়ালেও ‘জয়-বীরু’র বন্ধুত্বের সমীকরণ বদলায়নি।  বয়সে ধর্মেন্দ্র বড় হলেও অনুজ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে বরাবর সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন বীরু।  উল্লেখ্য, শোলে ছবিতে তাঁদের আইকনিক জুটি ভেঙেছিল পর্দায় ‘জয়’ ওরফে অমিতাভের মৃত্যুতে। বাস্তবে, ‘জয়’কে একা রেখে চলে গেলেন ‘বীরু’।

 

এদিন ধর্মেন্দ্রর শেষকৃত্যেও ছেলে অভিষেক বচ্চনকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন বিগ বি।


৮৯ বছর বয়সে ২৪ নভেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর শেষকৃত্যে এদিন সলমন খান, শাহরুখ খান, থেকে শুরু করে আমির, সহ বলিউডের একাধিক ব্যক্তিত্ব হাজির ছিলেন। হেমা মালিনী, এষা দেওলকেও বাবার শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ছিলেন ধর্মেন্দ্র। ছয়ের দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘রাম বলরাম’, ‘দ্য বার্নিং ট্রেন’, ‘মেরা করম মেরা ধরম’, ‘রকি অর রানি কী প্রেম কাহানি’, ইত্যাদির মতো ছবিতে কাজ করেছেন। 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *