‘মা’ শুভশ্রী’

'আমার বাচ্চাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে.....' মা হয়ে সেটা কখনোই মেনে নেবেন না, সন্তানদের জন্য  রুখে দাঁড়ালেন 'মা' শুভশ্রী। 

স্ত্রীর পক্ষ নিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে পরিচালক তথা তৃণমূল বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী

 

'মা' শুভশ্রী

গত শনিবার মেসিকে না দেখতে পাওয়ায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন রীতিমতো রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। এই ঘটনা যে গোটা বিশ্বের সামনে বাংলার মাথা নিচু করে দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই পুরো ঘটনায় সবথেকে বেশি মানসিক আঘাত পান মেসি ভক্তরা।  যারা ফুটবলের ঈশ্বরকে এক বার চোখের দেখা দেখার জন্য নিজেদের পরিশ্রমের অর্থ ব্যয় করেও তাকে দেখতে পাইনি। আর সেই অসন্তোষের আগুনের আঁচে দগ্ধ হন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। যদিও দুদিন লাগাতার আক্রমণের শিকার হয়েও মুখ খোলেননি শুভশ্রী। কিন্তু স্ত্রীর পক্ষ নিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে পরিচালক তথা তৃণমূল বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। থানারও দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। তবে এবার সেই ঘটনায় নিরাবতা ভাঙলেন শুভশ্রী। দুই সন্তানকে ক্রমাগত আক্রমণ করায় বাধ্য হয়ে এদিন এক ভিডিও বার্তায় সরব হলেন তিঁনি। 

সোমবার একটি ভিডিও শেয়ার করেন শুভশ্রী । সেই ভিডিওতে তিনি বলেন, “যুবভারতীতে মেসিকে নিয়ে যে ‘মেস’টা ঘটে গেল, সেটা ব্যাখ্যা করার জন্যই আমি এই ভিডিওটা পোস্ট করছি। গোট ইভেন্টে আমি নিজে আমন্ত্রিত ছিলাম। আমন্ত্রণ পেয়েই আমি হায়াতে গিয়েছিলাম। সিনেদুনিয়ার

আরও পড়ুন:

প্রতিনিধি হিসেবে আমি এবং কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলাম। সেখানে বড় বড় শিল্পপতি-সহ অনেক বিদ্বজ্জনরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অ্যাক্টিভিটিটাই ছিল মেসি আসবেন, আমাদের সবার সঙ্গে দেখা করবেন এবং ছবি তুলবেন। আমি সাড়ে ৮টা নাগাদ হায়াতে পৌঁছই। দশটা পনেরো নাগাদ আমার সঙ্গে মেসির দেখা হয়। আমি ছবি তুলি এবং যখন আমি বেরিয়ে আসছি তখন ওদের পিআর টিমের তরফ থেকে আমাকে অনুরোধ করা হয়, যদি আমি যুবভারতীতে যাই, তাহলে ওদের খুব সুবিধে হয়। কারণ ওখানেও নানারকম ব্যবস্থাপনা ছিল।”

বাংলা ছবি থেকে কেন শুধু শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কেই আমন্ত্রণ জানানো হল, তিনি শাসক দলের বিধায়কের স্ত্রী বলেই কি ওই বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন, এই সব প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রশ্নের কথা অভিনেত্রী উল্লেখ করে বলেন, “এই উত্তর ওদের পিআর টিম বেশি ভাল দিতে পারবে।  আমি রাজি হওয়ার পর হায়াত থেকে বেরিয়ে যুবভারতীতে যাই। এবং আমাদের জন্য একটা নির্দিষ্ট তাঁবু ছিল, আমরা সেখানেই বসে মেসির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এর মাঝেই আমার পিআর টিম থেকে সোশাল মিডিয়ায় ছবিগুলি পোস্ট করা হয়। তবে যে সময়ে ছবিগুলি পোস্ট করা হয়েছে, সেসময়ে পোস্ট হয়নি কারণ সেখানে জ্যামার লাগানো ছিল। যাঁরা সেদিন ওখানে ছিলেন, তাঁরা জানেন  ওখানে নেট কাজ করছিল না। তারপর সাড়ে ১১টা নাগাদ মেসি ঢোকেন তারপর যে বিশৃঙ্খলাটা সৃষ্টি হয় সেটা আমি নিজে দেখছি। আমরাও তাঁবু থেকে মেসিকে দেখতে পাইনি।  তবে দেখতে পাচ্ছিলাম ম্যানেজমেন্ট এর বিশৃঙ্খলার জন্য কিভাবে একটা সুন্দর অনুষ্ঠান হতে গিয়েও হতে পারেনি। তারপর শুরু হলো ঝামেলা। আমার একটা শুটিংয়ে যাওয়ার ছিল। ততক্ষণে আমার দেরিও হয়ে গিয়েছিল অনেকটা। তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে বেরিয়া আসি।”

অভিনেত্রী আরও বলেন,  “বেরনোর সময়ে ফোনে ব্যস্ত ছিলাম। এবং এত সুন্দর একটা অনুষ্ঠান যে হতে গিয়েও হল না, সেটা নিয়েই কথা বলছিলাম অনেকের সঙ্গে। এরপর আমি যখন বাণতলায় শুটে পৌঁছেই মেকআপের জন্য চলে যাই। তারপর আর ইনস্টাগ্রাম খুলে দেখার হয়নি। আর আমি পরে দেখি আমি যে ঘটনা দেখে এসেছি তা বড় আকার নিয়েছে, আর কোনও না কোনও ভাবে ওই ঘটনার সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে গিয়েছে। আমি ইনস্টাগ্রাম খুলে দেখি যে আমার ছবিটা কিছুক্ষণ আগে পোস্ট হয়েছে, টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য। আর প্রচুর জায়গায় শেয়ার হয়ে গিয়েছে। আমাকে প্রোপাগান্ডা বানিয়ে. আমাকে অবজেক্ট বানিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু হয়। আপনারা এমন একটা অবস্থা তৈরী করলেন  যেন মনে হল মেসি যখন মাঠে ঢুকেছেন আমি ওনাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিলাম একা। আমি ওনার সঙ্গে ছবি তুলছিলাম একা। আমি কি আপনাদের ভিউ, ভিশন আমি ব্লক করেছি? আমি কি মাঠে কোথাও ছিলাম? আমার কী দোষ যে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং আমি হায়াতে গিয়ে ছবি তুলেছি সেটা দোষ?”, জবাব রাজ ঘরণির।
শুভশ্রীর আরও সংযোজন, “আমি মানছি প্রযুক্তিগত কারণে ভুল সময়ে আমার ছবি পোস্ট হয়েছে। আর আমি ছবিটা ডিলিট করিনি। এটা আমার দোষ হতে পারে। আপনাদের সঙ্গে আমি সমব্যথী..আপনাদের কষ্টের রোজগার, আপনাদের স্বপ্নের মানুষকে দেখতে পেলেন না..যে বিশৃঙ্খলা ওখানে হল একই জিনিস তো আপনারা আমার সঙ্গেও করছেন। আপনার কি একবারো ভেবে দেখেছেন? আমি একজন মহিলা, বাংলা ছবিতে কাজ করি বলে কি আমাকে অ্যাটাক করছেন? বলিউডেও তো করিনা কাপুর গিয়েছিলেন, শাহরুখ কি আসেননি ছবি তুলতে? নেতারা আমার ছবি নিয়ে প্রেস কনফারেন্স করছেন। তৃণমূলের এম.এল.এ রাজ চক্রবর্তীর বউ, অমুকের প্রাক্তন প্রেমিকা! ২০২৬ আসছে একজন মহিলা হয়ে আর একজন মহিলাকে এভাবে সম্বোধন করছেন। এই সমাজে আমরা বাস করছি। বাহ!
শেষে নায়িকা বলেন,  তবে আমি কিচ্ছু মনে করিনি। কারণ আমার নিজেরও মনে হয়েছিল যে, এত মানুষ কষ্ট করে টাকা খরচ করেও মেসিকে দেখতে পেলেন না, সেক্ষেত্রে আমাকে বাজে কথা বলে যদি কারও মন হালকা হয়, তাহলে হোক। কিন্তু আমার দুটো বাচ্চা তাদের প্রাণহানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা তো ঘটনায় কোনো ভাবেই জড়িত ছিল না। তাই মা হয়ে এটা মেনে নিতে পারিনি। ওদের দয়া করে টানবেন না।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *