‘ রান্না-বাটি ‘
রান্না বিষয়টা যেন কিছুটা থেরাপির মতো কাজ করে
সারাংশ:সদ্যস্ত্রী হারা এক বাবা তার স্ত্রীর হাতে লেখা রান্না বই খুঁজে পাওয়ার পর মেয়ের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াসম্পর্ককে পুনরায় ফিরে পেতে এক আন্তরিক যাত্রা শুরু করেন।সুস্বাদু খাবার কিভাবে সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দেয় তানিয়েই এইগল্প।
রান্না বিষয়টা যেন কিছুটা থেরাপির মতো কাজ করে।এই যেমন মন ভালো করতে মানুষ রান্না করে ;আবার তেমনই সম্পর্কের সমীকরণ ওসুদৃঢ় করে এই রান্না।সেইগল্পই পরিবেশন করেছেন পরিচালক প্রতীমডি গুপ্ত।মরচে পড়ে যাওয়া প্রাণহীন সম্পর্কের মধ্যেও প্রাণের সঞ্চার করে পছন্দের কিছু ডিশ।কথায় বলে, একরাশ মনখারাপের মাঝেও ঠোঁটের কোণায় হাঁসি ফুটেও ঠেসা মনে যদি পছন্দের ডিশ আসে।রান্নাবাটির গল্পঠিক যেনসেরকমই।বাবা -মেয়ের সম্পর্কের মাঝের সুতোটা দড়ির মতো মজবুত করার অনবদ্য প্রচেষ্টা।ঋত্বিক চক্রবর্তী ছবিটিতে কিছু জোরালো মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন, সামগ্রিক ভাবে, তার অভিনয় যথেষ্টই ভালো।সোহিনী সরকার বেশ শালীন এবং আন্তরিক, সংক্ষিপ্ত ভাবে সোলাঙ্কিরায়-এর উপস্থিতি এবং ছবিতে ঋত্বিকের সাথে তার রসায়ন খুব একটা উন্নতনা হলেও
মোহরের সাথে তার মাসুপ্রিয়া অর্থাৎ শোলাঙ্কির চরিত্রটি মানুষকে বেশি আবেগ প্রবণ করেছে। তবে রীতা রায় অর্থাৎ সোহিনী সরকারের এন্ট্রি গল্পটি কে আরো বেশী স্পাইসআপ করে।গল্পে দেখানো হয়েছে তার জীবনও সহজ নয়,অথচ জীবনের কঠোর পরিস্থিতি আর হারানোর যন্ত্রণা ভুলে থাকতে সে রান্না’কেই বেছে নিয়েছে।যেই রান্নাকে মানুষ হেয় করে ,সেই রান্না যে কারো জীবনে বেঁচে থাকার রসদ হতে পারে সেটাই সুন্দর ভাবে পরিবেশন করা হয়েছে।শোলাঙ্কি এবং সোহিনী – দুই লিডিং লেডি নিজেদের জায়গায় স্বতঃস্ফূর্ত।
ছবিতে যার কথা একেবারেই বাদ দেওয়ার নয় ,সেহলোইদা দাশগুপ্ত।ঋত্বিক চক্রবর্তীর বিপরীতে সেযেই পারফরমেন্স ডেলিভারি করেছে তা সত্যি প্রশংসনীয়।যেপারিবারিক জিন কিছুটাহলেও নিজের মধ্যে বহন করছে, তার অভিনয়ই তার প্রমাণ।অন্যদিকে ঋত্বিকের বন্ধুর চরিত্রে দেখা যায় অনির্বাণ চক্রবর্তীকে; এছাড়াও আছেন বরুণ চন্দ্র। হৃদয় থাকলেও হৃদস্পন্দন নেই! সবশেষে পরিচালক প্রতীমডিগুপ্তকে নিয়ে এটুকুই বলতে হয়, রান্নার মতো একটা সাবজেক্টকে নিয়ে সম্পর্কের সমীকরণ আরজীবনের টানা পোড়েনের যে রসায়ন তিনি দেখিয়েছেন তা সত্যি প্রশংসারযোগ্য।যদিও খাদ্য কেন্দ্রিক ছবির
ছবির ভান্ডার তার ঝুলি তে আগেও আছে।এই প্রজন্মের কাছে শিক্ষণীয় বটে গল্পটি।বাবা হয়ে উঠতে গেলে মায়ের মত আগলে রাখতে জানতে হয় ,সেই বার্তাই দেয় এইছবি।তবে ছবিটি হৃদয় থাকলেও হৃদস্পন্দনহীন মনে হওয়ার একটা বিষয়ও আছে।আবেগের ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও, লেখা এবং পরিচালনার মধ্যে সংযোগের অভাব লক্ষণীয়।ছবিটিআরো বেশী মর্মস্পর্শী হতে পারত।যদিও সিনেমা টোগ্রাফি পরিষ্কার কিন্তু অপ্রয়োজনীয় ভাবে প্রসারিত দৃশ্যের ভারে ভারা ক্রান্ত।
ছবিরনাম: রান্না – বাটি
পরিচালক: প্রতীমডিগুপ্ত
অভিনয়ে: ঋত্বিকচক্রবর্তী, সোহিনীসরকার ,শোলাঙ্কিরায়, ইদাদাশগুপ্ত , অনির্বাণচক্রবর্তীওঅন্যান্য।
রেটিং :৩