‘দাঙ্গাল’ অভিনেত্রী

 

লাগাম ছাড়া খাওয়া-দাওয়া, মানসিক চাপ....., ফের কোন বিরল রোগে আক্রান্ত হলেন 'দাঙ্গাল' অভিনেত্রী ?

ফাতিমা ‘দঙ্গল’ ছবির সময়ই জানিয়েছিলেন মৃগী রোগে আক্রান্ত তিঁনি

 
Image

মৃগী তো ছিলই এর সাথে আরো এক বিরল রোগে আক্রান্ত হন ফাতিমা সানা শেখ। ফাতিমা ‘দঙ্গল’ ছবির সময়ই জানিয়েছিলেন মৃগী রোগে আক্রান্ত তিঁনি। এক বার বিমানযাত্রার সময় মাঝ-আকাশে খিঁচুনি ধরে তাঁর শরীরে। মাঝের একটা সময় ধরে কিছুটা ভাল ছিলেন। এ বার নতুন এক রোগের কথা জানালেন ফাতিমা। তিঁনি জানান,  জীবনের এক পর্যায়ে তিনি বুলিমিয়া রোগে ভুক্তভোগী হন। খাওয়ার নিয়ন্ত্রণ হারানোর মানসিক রোগে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। বাইরের দুনিয়া তাঁকে হাসিখুশি ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে দেখলেও, ভেতরে ভেতরে তিনি লড়াই করছিলেন ভয়ঙ্কর অভ্যাস ও মানসিক চাপের সঙ্গে।
‘দঙ্গল’-এর পর থেকেই চর্চা শুরু হয় তাঁর ও আমির খানের সম্পর্ক নিয়ে। কিরণ ও আমিরের বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হিসাবে অনেকেই আঙুল তোলেন ফাতিমার দিকে। শোনা যায়, ‘দঙ্গল’ ছবির সেটেই নাকি একে অপরের কাছে আসেন তাঁরা। ছবির শুটিং চলাকালীন ফাতিমা আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়তেন। আদতে তিনি মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু অভিনেত্রী মেনে নিতে পারেননি, তাঁর

 
 

আরও পড়ুন:

কোনও স্নায়বিক রোগ থাকতে পারে। প্রথম প্রথম এতটাই ভয় পান যে ওষুধ পর্যন্ত খেতেন না। এ বার ফাতিমা জানালেন, তিনি ‘বুলিমিয়া’ রোগে আক্রান্ত। যার ফলে দিনে প্রায় ২৫০০ ক্যালরির খাবার খান। এককথায় নিজের খাওয়া-দাওয়ার উপর কোনও লাগাম থাকে না তাঁর। অভিনেত্রী নাকি লাগামছাড়া খাওয়া-দাওয়া করছেন গত এক বছর ধরে। অভিনেত্রীর জন্য নাকি এই বিষয়টা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর ছিল।

ফাতিমা জানিয়েছেন, বন্ধুমহলে একজনই প্রথম তাঁর সমস্যা বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা সহ-অভিনেত্রী সান্যা মালহোত্রা। ফাতিমার আচরণ অস্বাভাবিক এবং এর পেছনে বড় মানসিক চাপ কাজ করছে বলে মনে করেন সান্যা। বন্ধুর এই মন্তব্যই চোখ খুলে দেয়।তিনি আসলে নিজের সঙ্গেই লড়াই করছেন, উপলব্ধি করেন ‘মেট্রো ইন দিনো’র অভিনেত্রীর। 
এই রোগ তাঁর মানসিক অবস্থাকেও বিপর্যস্ত করে। ফাতিমার কথায়, “আমি নিজেকে দোষ দিতাম, মনে হতো আমার শরীর, আমার মন-কিছুই আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।” এর সঙ্গে যোগ হয় লুকানো ভয় ও লজ্জা। খাবারের সঙ্গে অভিনেত্রীর সম্পর্ক একসময় ‘টক্সিক’ হয়ে পড়ে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ধীরে ধীরে ফাতিমা এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসেন।

 
 
 
 
 

চিকিৎসা, সচেতনতা ও বন্ধুদের সহযোগিতায় তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি, “সাহায্য চাইতে লজ্জা নেই। আমি আমার অভিজ্ঞতা বলছি যাতে অন্যরা ভয় না পায়।” মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বলিউডের পরিচিত মুখ যখন এ ধরনের বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ে। অনেকেই খাবার-সংক্রান্ত মানসিক রোগকে গুরুত্ব না দিয়ে লুকিয়ে রাখেন, যা ভবিষ্যতে আরও বিপদ ডেকে আনতে পারে। এপ্রসঙ্গেই, ফাতিমার বার্তা স্পষ্ট, “মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা লজ্জার নয়। কথা বলুন, সাহায্য নিন, নিজেকে ভালবাসুন।”

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *