গায়িকা জোজো মুখোপাধ্যায়
সংসার কী, ভাল করে বোঝার আগেই শ্বশুরবাড়িতে গায়িকা জোজো মুখোপাধ্যায়
শোকের পাহাড় ভেঙে পড়লো জনপ্রিয় গায়িকা জোজোর মাথায়। বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্কের মুখে জোজো। এরইমধ্যে দ্বিতীয়বার মাতৃহারা হলেন জোজো। মাত্র আঠারো বছর বয়সে কিংশুক (বাবলু)-কে বিয়ে করেন তিঁনি । জোজোর দলে কি-বোর্ড বাজাতেন বাবলু। সংসার কী, ভাল করে বোঝার আগেই শ্বশুরবাড়িতে গায়িকা জোজো মুখোপাধ্যায়। তখন তাঁকে হাতেধরে পাঠ পড়িয়েছিলেন শাশুড়ি-মা। মেয়ের বড়ো হওয়ার অবদান ও যে শাশুড়ির সেকথাও বলতে ভোলেননি গায়িকা। কয়েক বছর আগে এক পুত্রসন্তান দত্তক নিয়েছেন গায়িকা। সেই পুত্র খুবই ছোট। স্বজনবিয়োগ বোঝার মতো বয়স বা উপলব্ধি, কোনওটাই হয়নি। সে কথা উল্লেখ করেই তিঁনি জানান, তাঁদের সন্তান আদি ঠাকুমাকে খুব মিস করবে। তিনি আশাবাদী যে তাঁর শাশুড়ি মা যেখানেই থাকুন না কেন ‘আদির টুইঙ্কেল টুইঙ্কেল লিটিল স্টার’ হয়ে তাকে আশীর্বাদ করবেন।
শনিবার সকালে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন জোজো মুখোপাধ্যায়ের শাশুড়ি। জানা গিয়েছিল বিগত কয়েক কয়েক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তাঁর শাশুড়ি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। শাশুড়িমার সাথে বেশ কিছু দিয়ে আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেন গায়িকা। তিঁনি লেখেন, ‘মা, যখন আমার সঙ্গে বাবলুর বিয়ে হয়, আমি সদ্য ১৮-র। সংসার শব্দটাই আমার কাছে আনকোড়া ছিল,
আমি হয়ত পারফেক্ট বউমা হতে পারিনি সবসময়, কিন্তু আমি যা কিছু তোমার থেকে শিখেছি তা আমার সঙ্গে থাকবে আজীবনের শিক্ষা রূপে। আমি হয়ত খুব অল্প বয়সী ছিলাম, নিজেদের পেশাদার জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের সমতা রক্ষা করতে পারিনি। কিন্তু তুমি আমাকে খোলা আকাশে উড়তে দিয়েছো, আমার কেরিয়ার আকটায়নি কারণ বাজো (জোজোর মেয়ে)-র সব দায়িত্ব তুমি পালন করেছো। যাতে আমি আর বাবলু আমাদের স্বপ্নপূরণ করতে পারি। আমাদের ৪ জনের ছোট্ট পরিবার। তুমি, আমি, বাবলু আর বাজো।’
জোজো আরও লেখেন, ‘এখন তুমি আমাদের থেকে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলে। তাই আমাদের ছুটি কাটানো, সব সিদ্ধান্ত নেওয়া, কালী পুজোর আয়োজনের খুঁটিনাটি কিছুই আর আগের মতো থাকবে না। আদি ওর ঠাকুমাকে খুব মিস করবে, কারণ ও জীবনের সত্যটা উপলব্ধি করার বয়সে পৌঁছায়নি এখনও। ভালো থেকো মা, সাবধানে যেও…. আবার দেখা হবে। ওম শান্তি’। তবে একটাই আফসোস গায়িকার শেষ সময় শাশুড়ির পাশে থাকতে পারেননি তিঁনি। কলকাতায় গানের রিয়্যালিটি শো ‘সারেগামাপা’-এর
শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে উত্তরবঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছোতে পারেননি তিনি। শেষ সময়টা জোজোর সঙ্গে না থাকলেও ছেলে কিংশুকের কাছে উত্তরবঙ্গে কাটিয়েছেন শাশুড়িমা। সেটাই জোজোর মনের শান্তি। জানিয়ে রাখি, গায়িকার স্বামী থাকেন উত্তরবঙ্গে। মেয়ে কর্মসূত্রে দক্ষিণ ভারতে। গায়িকা নিজে কলকাতায়।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন জোজো মুখোপাধ্যায়। তিনি ফেসবুকের পাতায় একটি লাইভ করে জানান একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে দারুণ অসুবিধায় পড়তে হয় তাঁকে। জোজো জানান তিনি এবং তাঁর টিম সাউন্ড চেক করার পর পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর টিম সাউন্ড চেক করতে ওঠেন। আর তখনই তাঁরা অনুমতি ছাড়াই জোজোর দলের বাদ্যযন্ত্র সরিয়ে দেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন জোজো। গোটা ঘটনাকে তিনি ‘অসভ্যতামি’ বলে আখ্যা দেন, বলেন ‘মঞ্চ কারও বাবার সম্পত্তি নয়’। পাল্টা জবাব দেন পৌষালীও।