‘অভিনেত্রী মধুমিতা’
রবিবার ছুটির দিনে মধুমিতা-দেবমাল্য কে আইবুড়োভাত খাইয়েছে তাদের বন্ধুবান্ধবরা
এই বিয়ের মরসুমে পরিণতি পেতে চলেছে আরও এক ভালোবাসা। এই শীতে বন্ধু দেবমাল্যর গলায় মালা দেবেন মধুমিতা সরকার। দেবমাল্যর সঙ্গে প্রেম কোনওদিন লুকিয়ে রাখেননি মধুমিতা। সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন দু’জনের কাটানো সুন্দর মুহূর্ত। একাধিক সাক্ষাৎকারেও কথা বলেছেন প্রেমিককে নিয়ে। তখনই জানিয়েছিলেন বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় এসেছে। তাই এই মুহূর্তে ভীষণ ব্যস্ত অভিনেত্রী। একদিকে নতুন ছবি-ধারাবাহিকের ব্যস্ততা, অন্যদিকে বিয়ের প্রস্তুতি। কানাঘুষো আগামী, জানুয়ারিতে গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছেন অভিনেত্রী। যদিও বিয়ের দিনক্ষণ এখনই ফাঁস করতে নারাজ মধুমিতা, তবে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে আইবুড়োভাত খাওয়ার পর্ব। জুটিতে আইবুড়োভাত খাওয়ার ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন মধুমিতা।
রবিবার ছুটির দিনে মধুমিতা-দেবমাল্য কে আইবুড়োভাত খাইয়েছে তাদের বন্ধুবান্ধবরা। তবে নামে ‘আইবুড়ো ভাত’ হলেও মেনুর ক্ষেত্রে চিরাচরিত প্রথা অনুসরণ করেননি তাঁরা। বরং কন্টিনেন্টাল
মেনু আড্ডায় এদিন জমে উঠেছিল অভিনেত্রীর আইবুড়ো ভাতের আসর। পরনে সাদা সালোয়ার। মুখে হাসি। হবু স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ক্যামেরায় পোজ দিতে দেখা গেল মধুমিতাকে। আর অভিনেত্রীর শেয়ার করা আইবুড়ো ভাতের মুহূর্ত দেখেই উচ্ছ্বাস অনুরাগীমহলে। কারণ অতীতের বিচ্ছেদ যন্ত্রণা কাটিয়ে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন তাঁদের প্রিয় দুষ্টু-মিষ্টি অভিনেত্রী। আর সেই প্রেক্ষিতেই মধুমিতাকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন ভক্তরা।
শোনা গিয়েছিল, বারুইপুর রাজবাড়ি অথবা শোভাবাজার রাজবাড়ির কোনও একটিতে বিয়ে হওয়ার কথা মধুমিতা-দেবমাল্যের। এই দুই জায়গার কথা যে হবু বর-কনে ভেবেছেন, সেটা জানিয়েছেন। তবে এখনও আলোচনার পর্ব চলছে বলেই দাবি তাঁদের। মধুমিতার কথা অনুযায়ী, কেনাকাটা ছাড়া বিয়ের তারিখ এবং বিবাহবাসরের জায়গা এখনও ঠিক হয়নি। এ বার কনের সাজে মধুমিতাকে দেখার জন্য অধীর অপেক্ষায় অনুরাগীরা।
মধুমিতাকে বর্তমানে দর্শক দেখছেন ষস্টার জলসার ‘ভোলেবাবা পার কারেগা’ ধারাবাহিকে। এই গল্পে তাঁর চরিত্রের নাম ‘ঝিল’। বহু বছর পর ছোটপর্দায় ফিরে মধুমিতা জুটি বেঁধেছেন অভিনেতা নীল
ভট্টাচার্যের সঙ্গে। মধুমিতা ও নীলের জুটিকে অনস্ক্রিন দেখে বেশ পছন্দ করেছেন দর্শক। অন্যদিকে, শুরু হয়েছে অভিনেত্রীর পরবর্তী ছবি ‘অটোবি’। থ্রিলার ঘরানার এই ছবির পরিচালনায় সৌমাভ ব্যানার্জি। প্রযোজনায় ডিকে ভারতী ও সিদ্ধি বিনায়ক ক্রিয়েশন। মধুমিতা সরকার ছাড়াও ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন ইনায়া চৌধুরী, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরিয়ান ভৌমিক। গল্পে মধুমিতার চরিত্রের নাম ‘ডিম্পল’। ইনায়ার চরিত্রের নাম ‘তানিয়া’। অন্যদিকে, আরিয়ানকে দেখা যাবে মধুমিতার স্বামী ‘সঞ্জীব’-এর চরিত্রে। একজন সাংবাদিকের চরিত্রে দেখা যাবে সাহেব চট্টোপাধ্যায়কে এবং জঙ্গলের গাইডের চরিত্রে থাকবেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। গল্পের শুরু হয় অতীতের এক মর্মান্তিক পারিবারিক দুর্ঘটনা দিয়ে, যেখানে দুই বোন—ডিম্পল এবং তানিয়া—তাদের চোখের সামনে বাবা-মায়ের ভয়াবহ মৃত্যু দেখে। এই মানসিক আঘাত দুই বোনকে একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রাখে। বড় হওয়ার পর ডিম্পল তানিয়ার প্রতি অতিরিক্ত রক্ষণশীল হয়ে ওঠে। দুঃস্বপ্নের শুরু হয় যখন ঝাড়গ্রাম পুলিশ স্টেশন থেকে ডিম্পল একটি ফোন পায়। জানা যায়, স্কুল শিক্ষিকা তানিয়া গত কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ । তদন্তে উঠে আসে এক ভয়ানক তথ্য—তানিয়াকে শেষবার দেখা গিয়েছিল চামসুট্টি জঙ্গলের সামনে। যা স্থানীয়দের কাছে আত্মহত্যার জায়গা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, এই জঙ্গল নাকি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। বোনের খোঁজে সেই জঙ্গলে গিয়ে কী পরিণতি হবে ডিম্পলের? সেই নিয়েই এগোবে গল্প।